Image description

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ঢাকার সড়কের ৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে জনসংখ্যার মাত্র ৪ ভাগ মানুষ। অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ মানুষের জন্য সড়ক রয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় যানজটের কারণে রাজধানীতে দিনে প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যমতে, ১৫ বছরে ঢাকায় নিবন্ধিত হয়েছে মোট ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬টি যানবাহন। এর মধ্যে বাস, হিউম্যান হলার ও টেম্পু ৪৮ হাজার ৩৫৪টি। মোটরসাইকেল ১১ লাখ ৫৬ হাজার ও প্রাইভেট কার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫০টি। অর্থাৎ ১৫ বছরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে ১৫ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টি।

ড্যাপের হিসাব বলছে, রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনের মাত্র ৪ শতাংশ গণপরিবহন। বাকিগুলো ব্যক্তিগত। 

ড্যাপের ডেপুটি টিম লিডার খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, ‘প্রাইভেট গাড়িগুলো যখন ঢাকার রাস্তায় চলতে থাকে তখন সে সড়কের ৮৮ শতাংশ দখল করে রাখে। এই যে একটা অন্যায় ব্যবস্থা, এ জন্যই ঢাকায় ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে। ঢাকায় কোনো ম্যানেজমেন্ট নেই, সবচেয়ে বড় জিনিস যেটা, সেটা হচ্ছে মানুষের প্রতি জাস্টিস করা হয় না।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজট কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা আমাদের পলিসি নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে ব্যক্তিগত গাড়ি যাতে করে বাড়ে সেটার সঙ্গে সম্পর্কিত এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার এগুলো বাড়ছে। বিপরীতে সরকার যখন নিয়ন্ত্রণের কথা বলে তখন ব্যবসায়ী পক্ষরাই আরও গাড়িকেন্দ্রিক যে ব্যবসা তা চাঙ্গা করার জন্য রাজনৈতিকভাবে একটা সমঝোতা করে।’

বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘যানজট কমানোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়িতে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। পাশাপাশি গণপরিবহনকে বাড়ানো দরকার। দেখা যায় যে, কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছে, বিআরটিএ বা অন্যান্য সংস্থা তারা কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্তৃপক্ষকে এর জন্য দায় নিতে হবে। এবং এসব সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যে যানজট আসলে আমরা চাই, না চাই না।’