Image description

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় ছুটি কাটাতে একই মাইক্রোবাসে দুটি পরিবারের সদস্যরা যাচ্ছিলেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। বুধবার সকালের স্নিগ্ধ আলো ফোটার সময় চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ সংঘর্ষ কেড়ে নেয় মাইক্রোবাসের দশজনের প্রাণ। স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে মিশে গেল গাড়ির ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে। 

দুর্ঘটনার পর আহত ছয়জনকে দ্রুত উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাণ হারায় আরও একজন। বাকী ৫ জনকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি সেখানেও হানা দেয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিছানায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আরও ২ জন।

হাসপাতালের বিছানায় বাকী তিনজন লড়ছেন জীবনের জন্য। দুটো পরিবার শূন্য হয়ে দশটি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল এই একটি দুর্ঘটনায়।

নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশ। নিহতরা হলেন, ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), দিলীপ বিশ্বাসের স্ত্রী সাধনা মন্ডল (৩৭), দিলীপের শ্বশুর আশীষ মন্ডল (৫০), ঢাকার মিরপুরের আব্দুল জব্বারের ছেলে রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬), রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), বড় মেয়ে আনিসা (১৬), ছোট মেয়ে লিয়ানা (০৮), মৃত রফিকুল ইসলামের ভাগনি তানিফা ইয়াসমিন (১৬), মামা মুক্তার হোসেন (৬০) ও মাইক্রোবাস চালক ঢাকার দক্ষিণ খান এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ আলী (৫৫)।

১৮ বছর বয়সী তরুণ দুর্জয় মণ্ডল ও প্রেমা এবং ৭ বছর বয়সী আরধ্যা বিশ্বাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে চমেক হাসপাতালে। তারা এখনও জানে না তাদের প্রিয়জন আজ কোন নিষ্ঠুর পরিণতির শিকার হয়েছেন।

লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকাটি যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঠিক ঈদের দিন সকালে একই এলাকায় দুর্ঘটনায় ঝরেছিল পাঁচটি তাজা প্রাণ। পরের দিন মঙ্গলবার কাছাকাছি স্থানে দুটি মাইক্রোবাস উল্টে আহত হয়েছিলেন অন্তত আটজন। আর বুধবারের এই দুর্ঘটনায় দশজনের মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই