Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন কুদাব কাজীবাড়ি এলাকায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আব্দুল মজিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) মামলার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ লালমনিরহাট জেলার সদর থানার শিবরাম (বড়বাড়ী শিমুলতলা) গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। তিনি পূবাইলের কুদাব এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি আয়ুর্বেদ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশুটি কুদাব এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালালে শিশুটি ভয়ে চিৎকার ও কান্না শুরু করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আব্দুল মজিদকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং স্থানীয়দের সহায়তায় মজিদকে আটক করি। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই পাশবিকতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং শিশুটিকে সরে যেতে বলেছিলেন। তবে স্থানীয়রা তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

পূবাইল থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জনরোষ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পূবাইল থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) এহতেশাম তালুকদার জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মানবকন্ঠ/আরআই