Image description

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক পারমিট) ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নারকটিক পারমিট ছাড়াই চলছে দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। 

বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান নিরীক্ষক সাইফুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে জানান, ‘দেশে প্রায় ১২ হাজার হাসপাতালের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পারমিট কিংবা  ছাড়পত্র রয়েছে কেবল ১৩০০ ক্লিনিক ও হাসপাতালের। যদিও নারকোটিক পারমিট ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ 

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেই দেশের ২ হাজার ৯১৬টি হাসপাতালের। দেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ২৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে অথবা লাইসেন্সের জন্য আবেদন বা নবায়ন করা হয়েছে। অসংখ্য হাসপাতালকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে অনেক হাসপাতাল কেবল এই দুই সংস্থার ছাড়পত্রের ‘আবেদনের রসিদ’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আবেদনে জমা দিয়েছে। ওই রসিদ বিবেচনায় নিয়েই এবার লাইসেন্স দেয়া ও নবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে আগ্রহী করতে এ প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। তারপরও বড়সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্সের জন্য বা নবায়নের জন্য আবেদন করেনি। পরিবেশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই দুই ছাড়পত্র ছাড়া লাইসেন্স দেয়া ঠিক হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যেকোনো হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বিষয় রয়েছে। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, ধারালো বর্জ্য, সংক্রমণ সৃষ্টিকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। কারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু না হলে পরিবেশের ক্ষতিসহ জনগণের স্বাস্থ্য বিপন্ন হতে পারে। এছাড়া প্রতিটি হাসপাতালের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। কারণ, হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ (ক, খ, গ শ্রেণি) সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে কিছু আছে যা মাদক শ্রেণিভুক্ত এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া প্রয়োগ করা যায় না। এ কারণেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

পরিবেশের ছাড়পত্র জমা না নিয়ে শুধু রসিদ দেখে লাইসেন্স দেয়ায় সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘ওই হাসপাতাল ছাড়পত্র না-ও পেতে পারে। কেবল জমা রসিদকে বিবেচনায় নিয়ে কী করে একটি হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ও ক্লিনিকগুলোর ডিরেক্টর ডা. আবু হোসাইন মো. মইনুল আহসান মানবকণ্ঠকে জানান, গত জুন থেকে নারকোটিক পারমিশন ছাড়া হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা থাকলেও বদলে যাওয়া পরিবেশে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। নারকোটিক পারমিশন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র ছাড়া কোনো হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না। শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ তত্ত্ব বিভাগের  সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. রিয়াজ মোবারক মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালগুলোয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ছাড়পত্রের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের প্রথম কাজ স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা। সে প্রক্রিয়া সহজ হওয়া উচিত। ছাড়পত্র জমা দেয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি। এছাড়া দরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো। তাহলেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো নিবন্ধিত হতে বাধ্য হবে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ সুন্দর থাকবে।’