Image description

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছে ইরান। একদিকে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) নিজেদের দাপট বজায় রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতারা নতুন এক ‘গণতান্ত্রিক ইরানের’ স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে— কে হবেন খামেনির উত্তরসূরি?

অন্তর্বর্তীকালীন শাসন ব্যবস্থা

ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম। এই পরিষদই রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ট্রাম্পের ‘পছন্দের প্রার্থী’ রহস্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর পর এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তেহরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁর নজরে ‘বেশ ক’জন ভালো প্রার্থী’ রয়েছেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জানি তারা কারা, কিন্তু এখনই নাম বলতে পারব না।” ট্রাম্পের এই রহস্যময় মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

মাঠে দুই বিরোধী নেতা

ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে বর্তমানে দুই প্রভাবশালী বিরোধী নেতা সক্রিয় রয়েছেন:

১. মরিয়ম রাজাভি: ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরানের (এনসিআরআই) এই নেত্রী দেশটিকে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরের ডাক দিয়েছেন। তিনি রাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী এবং আগামী ৬ মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের ছক তৈরি করেছেন।

২. রেজা পাহলভি: ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি এক্সে (টুইটার) দেওয়া পোস্টে জানান, তিনি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুত। মার্কিন হামলাকে ‘মানবিক হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আইআরজিসি সদস্যদের জনতার কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ধর্মীয় উত্তরসূরি কারা হতে পারেন?

যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটে, তবে ধর্মীয় আলেমরাই পরবর্তী নেতা বেছে নেবেন। আলোচনায় প্রধানত দুটি নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে:

মুজতবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির মেজ ছেলে (৫৬)। তিনি তাঁর পিতার কট্টরপন্থি দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমর্থক এবং আইআরজিসির কট্টরপন্থিদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

হাসান খোমেনি: ইসলামি বিপ্লবের জনক রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি (৫৩)। তাঁকে তুলনামূলক উদারপন্থি হিসেবে দেখা হয় এবং তরুণ প্রজন্মের একাংশের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

এদের বাইরে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আলি রেজা আরাফির নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

যেভাবে নেতা নির্বাচন হবে

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ জন আলেমকে নিয়ে গঠিত ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেবেন। এই পরিষদের সদস্যরা সাধারণত খামেনির অনুগত এবং কট্টরপন্থি আলেম হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে সামরিক সংঘাত চলমান থাকায় সব সদস্যকে একত্রিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া পরিষদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাই দেশটির সামরিক বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ। রাষ্ট্রের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

মানবকণ্ঠ/আরআই