যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ বোমারু বিমানে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা লোড করা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পেন্টাগন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের ভূগর্ভস্থ সুসংহত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য এই ভারী বোমারু বিমানগুলো প্রস্তুত করছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত একটি বি-১ বিমানের অস্ত্র বগি থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (জেডিএএম) বোমা মজুত করা হচ্ছে। এই বোমাগুলো বিএলইউ-১০৯ ওয়ারহেডযুক্ত ২,০০০ পাউন্ডের বাংকার বাস্টার, যা গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে কার্যকর।
বি-১ ল্যান্সার বিমান সাধারণত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন এজিএম-১৫৮ জ্যাসম) বহন করে, যা শত শত মাইল দূর থেকে নিক্ষেপ করা যায় এবং বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জের বাইরে থাকে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী স্থাপনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কম কার্যকর। জেডিএএমের জন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ২৫ মাইলের মধ্যে যেতে হয়, যা ইরানের আকাশসীমার গভীরে প্রবেশের ঝুঁকি নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এর অর্থ পেন্টাগন আত্মবিশ্বাসী যে ইরানের বিমানবিধ্বংসী সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আকাশে আধিপত্য প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকাশ্য প্রস্তুতি ইরানের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তাও—যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলো আসছে এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা ইরানের খুব কম।
ফ্লাইটগ্লোবালের ‘ওয়ার্ল্ড এয়ার ফোর্সেস ২০২৬’ ডেটাবেজ অনুসারে, মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে ৪০টি বি-১ বিমান রয়েছে। এমন একটি বিমান হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে।
এই ঘটনা চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের (অপারেশন এপিক ফিউরি) অংশ, যা ফেব্রুয়ারি শেষ থেকে চলছে। বি-১ বিমানগুলো এখন যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য ওয়ার জোন, ফোর্বস, বিবিসি।




Comments