পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে এক বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে ৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা, ৬ জন বিক্ষোভকারী এবং ১ জন পথচারী রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় স্থানীয় নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’-কে প্রশাসন নিষিদ্ধ করার পর থেকেই মূলত এই ক্ষোভের সূত্রপাত।
নির্বাচনী অসন্তোষ: আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে ৪৫ সদস্যের আইনসভায় ১২টি আসন পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশে বসবাসরত উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর ফলে বাইরের প্রভাব বাড়বে এবং তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে।
অর্থনৈতিক সংকট: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনার পাশাপাশি তীব্র মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছিল সংগঠনটি।
নির্বাচনের আগে পুরো অঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। সোমবার সকালে রাওয়ালকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে (যেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর মরদেহ রাখা ছিল) হাজারো মানুষ জড়ো হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ৪ পুলিশ নিহত হন, যার জবাবে পাল্টা অ্যাকশনে যায় নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
সহিংসতার পর বহু মানুষকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments