Image description

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা বিবেচনায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণ আরও ৩ বছরের জন্য স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এই আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা এই চিঠিটি সিডিপির কাছে পৌঁছেছে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির আসন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

চিঠিতে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে: সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য যে সময় পাওয়া গিয়েছিল, তার বড় একটি অংশ করোনাপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যয় হয়েছে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক মুদ্রানীতির কঠোরতা এবং বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রবল চাপে ফেলেছে। এছাড়া শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ কারণ হিসেবে চিঠিতে বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমন্বয় এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

রপ্তানি ও বাণিজ্যে ঝুঁকি: সরকার আশঙ্কা করছে যে, বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন বলে সরকার মনে করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে নানা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে উত্তরণের সব সূচকে উত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে সেই সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন বর্তমান সংকটে আরও ৩ বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত থাকার সুযোগ চাইছে সরকার।

সিডিপির পর্যালোচনার পর প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি হবে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই