ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই সংসদে বসার সুযোগ পেয়েছি। তাই স্পিকারের কাছে নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যেন এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইঙ্গিত করে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমরা এই সংসদ প্রাঙ্গণে এসেছিলাম এবং সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ হাজারো শহীদের রক্ত আর অসংখ্য দেশপ্রেমিকের ত্যাগের ফসল হিসেবে আমরা এখানে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আমরা কোনো বেইমানি করব না।”
বক্তব্যে তিনি জুলাই গণহত্যার কঠোর বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদী হত্যা, গুম-খুন এবং বিগত সরকারের লুটপাট ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিস্টমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য পূরণে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম এবং শিশু আহাদ ও রিয়া গোপসহ প্রায় দেড়শ শিশুর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুন এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড ছিল ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন বাম ও ইসলামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments