Image description

ভারতের অবৈধ ‘পুশইন’ চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর কূটনৈতিকভাবে দিল্লির কাছে এক ডজনেরও বেশি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ নাগরিক প্রত্যাবাসনের একটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে পাঠানোর সুযোগ নেই এবং সরকার কোনো ধরনের পুশইন মেনে নেবে না।

তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। অবৈধ নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুসরণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন। বাহিনীর দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

তবে বিজিবির তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশের ১৩টি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষের পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সীমান্তে অস্থিরতা বাড়বে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অস্থায়ী নিবাসকেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বিজিবি। বাহিনীটির ভাষ্য, ২০২৫ সালে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনকে পুশইন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১২৬ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক এবং ৪০ থেকে ৫০ জন ছিলেন রোহিঙ্গা। ভারতীয় নাগরিকদের পরবর্তীতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পুশইন ইস্যু এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।