
মাদারীপুরে ইতালি থেকে টাকা পাঠানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চার জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে নববধূর পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণপুর গ্রামে।
আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে রাজৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের ভাই আলিরাজ চাকলাদার। নববধূ আরিফা আক্তার একই উপজেলার চর মোস্তফাপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে ও ইতালি প্রবাসী শাকিল চাকলাদারের স্ত্রী।
আহতরা হলেন- রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সাত্তার চাকলাদারের তিন ছেলে ইব্রাহিম চাকলাদার (৩২), রাকিব চাকলাদার (২৮), শামীম চাকলাদার (৩৫) ও শামীমের দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারিয়া বেগম (২১)। তারা ইতালি প্রবাসী শাকিল চাকলাদারের ভাই ও ভাবি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, রাজৈর উপজেলার চর মোস্তফাপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে আরিফা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় পূর্ব কৃষ্ণপুরের মৃত সাত্তার চাকলাদারের ইতালি প্রবাসী ছেলে শাকিল। পরে মেবাইল ফোনে গোপনে বিয়ে করেন তারা। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে প্রথমে ছেলের পরিবার তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা মেনে নেন। কিন্তু শাকিল বাড়িতে টাকা না পাঠিয়ে তার নববধূ আরিফার নামে টাকা পাঠানো শুরু করেন।
এ নিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটি হলে ওই নববধূ তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি মিমাংসার জন্য উভয় পরিবারের লোকজন সামনাসামনি হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে ওইদিন দুপুরেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে ইতালি প্রবাসী শাকিলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এসময় শাকিলের দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাবি মারিয়া এবং তার তিন ভাই ইব্রাহিম, রাকিব ও শামীমকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নববধূ পরিবারের লোক এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসী শাকিলের ভাই আলিরাজ চাকলাদার বলেন, আমার তিন ভাই ও অন্তঃসত্ত্বা ভাবী গুরুতর আহত হয়েছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
আহত অন্তঃসত্ত্বা মারিয়া আক্তার বলেন, আমি দুই মাসের গর্ভবতী। ওরা আমাকে মারধর করেছে ও মাথায় কুপিয়ে আঘাত করেছে। আমি সরকারের কাছে ওদের সঠিক বিচার দাবি করছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আশরাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের রাজৈর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাসুদ খান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই
Comments