Image description

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামে। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় এক অসুস্থ রোগীকে বাঁশে ঝুলিয়ে মাথায় করে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। যাতায়াতে বিলম্বের কারণেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামে প্রায় ৪ হাজার মানুষের বসবাস হলেও যাতায়াতের জন্য কোনো সড়ক নেই। ওই গ্রামের মোনাই অধিকারী (৬০) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু গ্রামে রাস্তা না থাকায় এবং রাতের অন্ধকারে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে না পারায় তাকে ওই রাতে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরদিন শনিবার সকাল ১১টার দিকে নিরুপায় হয়ে বাড়ির লোকজন বাঁশের সাথে নেট বেঁধে তার ভেতরে মোনাই অধিকারীকে বসিয়ে কাঁধে করে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। অন্যের বাড়ির উঠান, জমির আইল ও মাছের ঘেরের পাড় দিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে তারা কোদালধোয়া-বড়মগড়া সড়কের দয়াল ওঝার দোকানের কাছে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যানে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণের পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোনাই অধিকারীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী রিনা অধিকারী (৪৫) বিলাপ করতে করতে বলেন, "যদি ওই রাতেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া যেত, তবে হয়তো আমার স্বামী বেঁচে থাকতেন। রাস্তার অভাবেই তাকে সময়মতো ডাক্তার দেখানো যায়নি।"

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এর আগে একই বাড়ির ব্রজেন হালদারের ৯০ বছর বয়সী স্ত্রী কুমদিনীকে হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় টিনের ওপর করে মাথায় নিয়ে সড়কে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামের মালা হালদার ও গোলাপী হালদার জানান, বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। নৌকা বা পায়ে হাঁটা—কোনো পথই থাকে না। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন শিক্ষার্থী এবং গর্ভবতী নারীরা। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর কেউ আর খবর রাখে না।

এ বিষয়ে বাকাল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিমল হালদার বলেন, "রাস্তাটি নির্মাণের বিষয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাটির কাজের জন্য বাজেট নেই। গ্রামবাসী মাটি ভরাট করলে তিনি সেখানে হেরিংবোন (ইট বিছানো) কাজ করে দেবেন।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক সাংবাদিকদের জানান, "পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামের ওই রাস্তার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি শীঘ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং রাস্তাটি নির্মাণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর