
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে সারা দেশে দিসবটি পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র কদর রজনি পালন করবেন। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।
২০ রমজানের পর যেকোনে বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। শবে কদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল করা হয়।
‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।
লাইলাতুল কদরের তালাশ: পবিত্র লাইলাতুল কদর কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এই বরকতময় রাতটি অনির্দিষ্ট বা গোপন রাখা হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাইলাতুল কদর তালাশের কথা বলেছেন।
এক হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।’ অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯তম রাত। শবে কদর তালাশের জন্য নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার জীবনে রমজানে বহুবার ইতিকাফ করেছেন।
লাইলাতুল কদরের ফজিলত: লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। শবে কদর সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ -সুরা কদর : ১-৩। অর্থাৎ এ রাত অন্যান্য রাতের চেয়ে ৮৩ বছর ৪ মাসের চেয়েও উত্তম।
এটি শ্রেষ্ঠতম রাত। এ রাতের ইবাদতের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ -সহিহ বোখারি
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অভিমত: লাইলাতুল কদর সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও বিতর্কমুক্ত অভিমত হলো, শবে কদর রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একান্ত যদি এটা কারও জন্য সম্ভবপর হয়ে না ওঠে, তাহলে ছাব্বিশ রোজার দিবাগত রাতে কিছুতেই গাফেল থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে ওইদিন মাগরিব ও এশার নামাজ কেউ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সে শবে কদরের ফজিলত পেয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলে থাকেন, সাতাশতম রাতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া অবৈধ কিংবা বেদআত। অথচ এর সপক্ষে হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল রয়েছে। হজরত শোবা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) শবেকদরের রাত সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তা সম্পর্কে অবগত আছি, (তা হলো সাতাশতম রাত্রি)। কেননা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতে আমাদের নামাজে দাঁড়াতে আদেশ করতেন।’ -সহিহ মুসলিম : ২৬৯
হজরত মুয়াবিয়া (রা.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), হজরত হাসান (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) অনুরূপ ধারণা পোষণ করতেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই
Comments