স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ডাক্তার যাবে দুয়ারে’ প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তাসনিম জারার ৪টি প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্প্রতি এক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, মানুষকে আর ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, বরং ডাক্তারই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবেন। মন্ত্রীর এই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে তথ্য-উপাত্তসহ সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার ডা. তাসনিম জারা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন। এর আগে নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
ডা. তাসনিম জারার উত্থাপিত মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব ও সময়সীমা: তাসনিম জারা জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৭ জন ডাক্তার রয়েছেন। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তৈরি হতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। মন্ত্রীর বর্তমান ৫ বছরের মেয়াদে এই বিপুল ঘাটতি পূরণ করে কীভাবে ডাক্তারকে মানুষের পেছনে পাঠানো সম্ভব, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তিনি জানতে চান।
২. গ্রামে ডাক্তার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ: তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে থাকলেও ৭৫ শতাংশ ডাক্তার শহরে অবস্থান করেন। গ্রামে মানসম্মত আবাসন, সন্তানদের উন্নত স্কুল, পেশাগত নিরাপত্তার অভাব এবং শহরের তুলনায় কম উপার্জনের কারণে ডাক্তাররা সেখানে থাকতে চান না। এই সমস্যাগুলো সমাধান না করে কেবল নির্দেশের মাধ্যমে কীভাবে ডাক্তারদের গ্রামে পাঠানো হবে, তার ‘রোডম্যাপ’ জানতে চান তিনি।
৩. মেধাপাচার বা ব্রেইন ড্রেইন: প্রতি বছর কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাবে বিপুল সংখ্যক মেধাবী চিকিৎসক বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই ‘ব্রেইন ড্রেইন’ ঠেকানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
৪. সম্পদের সুষম বণ্টন না কি রাজনৈতিক বিবেচনা? স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার নিজের নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও আইসিইউ স্থাপনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাসনিম জারা। তিনি জানতে চান, এই সিদ্ধান্ত কি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্য ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক কোনো অগ্রাধিকার?
ডা. তাসনিম জারা তার ভিডিওর শেষে বলেন, "আমরা চাই এই সরকার স্বাস্থ্য খাতে সফল হোক, কারণ এটি জনগণের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। তবে সুন্দর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এর বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে আসা প্রয়োজন।"
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments