মাদারীপুরের কালকিনিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৭০ বছর বয়সী সৌদি ফেরত কৃষক হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর তার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুড়ে যায় কৃষকের বসতঘর।
এ ঘটনায় হাবলুর স্ত্রী দোলোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাবলু শিকদারকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেছে শিশুটির পরিবার। দুটি মামলাই তদন্ত করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে প্রায় ১০ বছর আগে কালকিনি উপজেলার চর সাহেবরামপুর গ্রামে জমি কিনে দোতলা টিনের ঘর নির্মাণ করেন কৃষক হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদার। পরে নিজের কেনা জমি নিয়ে প্রতিবেশী কামাল মালের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ২০২২ সালে আদালতে মামলা করেন হাবলু।
এরপর গত ২ অক্টোবর কামাল মাল পাঁচ বছরের এক শিশুকে দিয়ে হাবলুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় বলে দাবি করেন হাবলুর স্বজনরা। ঘটনার তিন দিন পর সোমবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাবলু শিকদার উপস্থিত না হওয়ায় একদল লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে যায়।
পরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হাবলুর পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই পুড়ে যায় বসতঘরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল।
হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদার বলেন, “আমার অপরাধ, আমি আদালতে কেন মামলা করলাম। সেই জেরেই আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ এনে এলাকাছাড়া করেছে। একপর্যায়ে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
হাবলুর ভাতিজা বাদল শিকদার বলেন, “আমার চাচা যদি কোনো অন্যায় করে, সেজন্য থানা আছে, আদালত আছে। সেখানে তার বিচার হবে। কিন্তু মব সৃষ্টি করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া চরম অন্যায়। এর বিচার না হলে অন্য এলাকাতেও এমন ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।”
শিশুটির বাবা বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, সেটার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানে হাবলু শিকদার হাজির না হওয়ায় বিক্ষুব্ধরা মিছিল নিয়ে তার বাড়ির দিকে চলে যায়। এরপর শুনতে পাই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তখন আমি কালকিনি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম।”
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, “কারও বসতঘরে আগুন দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী দোলোয়ারা বেগম ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাবলু শিকদারকে একমাত্র আসামি করে মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা করেছে শিশুটির পরিবার। দুটি মামলাই তদন্তাধীন রয়েছে।”
ডিআর




Comments