Image description

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এই অভিযানের ব্যাপ্তি বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।

ভেনেজুয়েলা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই আক্রমণকে ‘সরাসরি সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের বাণিজ্যিক বিমানগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এফএএ এই পরিস্থিতিকে ‘চলমান সামরিক তৎপরতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার এবং অবৈধ অভিবাসনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

অন্যদিকে, নিকোলাস মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মাদক পাচার একটি উছিলা মাত্র। আসলে ট্রাম্পের নজর ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদের দিকে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে একটি আধুনিক উপনিবেবে পরিণত করতে চায়, তবে তাদের এই চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার জাতীয় নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিজয়কে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ওই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাদুরোর বিজয়কে স্বীকৃতি দেয়নি। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজধানীসহ প্রধান শহরগুলোতে সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

মানবকন্ঠ/আরআই