Image description

ইরানের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা বাতিল করে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করুন। হত্যাকারী এবং নিপীড়কদের নাম লিখে রাখুন, তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।"

বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে ট্রাম্প আরও বলেন, "সহায়তা আসছে।" তবে এই ‘সহায়তা’ সামরিক হস্তক্ষেপ কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পরবর্তীতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেবে।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ
ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে দেশই ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করা হবে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
এদিকে, ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক অবস্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলি ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, "ইরানে বর্তমানে কোনো সংগঠিত শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। এই অবস্থায় হঠাৎ ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে দেশটি সিরিয়া, লিবিয়া বা ইরাকের মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) আরও কট্টরপন্থি অংশ ক্ষমতা দখল করতে পারে।

রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র দাবি অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী ১০০-এর বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরান ও মধ্যস্থতাকারীদের অবস্থান
ইরানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার ও ফ্রান্স। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারোট ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন এবং সংঘাত এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা