পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধায় ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের এই সংখ্যা বেড়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মকর্তারা জানান, কোট মোমিন এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় চালক ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর ট্রাকটি ‘গালা পুর বাংলা’ খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় খালটি পানিশূন্য ছিল।
উদ্ধারকারী দল জানায়, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজন ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন জরুরি সেবা কর্মীরা। মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ টিএইচকিউ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। জানা গেছে, যাত্রীরা সবাই একটি জানাজায় (অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া) অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
বর্তমানে পুরো পাঞ্জাব প্রদেশ তীব্র কুয়াশার চাদরে ঢাকা, যার ফলে রাস্তায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীতের সকাল ও রাতে ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে তারা চালকদের গাড়ির গতি কমাতে এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যান্য কুয়াশাজনিত দুর্ঘটনা
এদিকে লাহোরের গুলবার্গ এলাকার গুরুমাঙ্গত রোডে কুয়াশাজনিত পৃথক এক দুর্ঘটনায় গতকাল একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক্টর-ট্রলির পেছনে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে এম ওয়াসি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আব্দুল রাজ্জাক ও আব্দুল হাদি গুরুতর আহত হন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডেরা ইসমাইল খানের সিন্ধু মহাসড়কে কুয়াশার কারণে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন। মঙ্গলবার তৌনসা শরিফের কাছে চিনিবাহী একটি ট্রেলার এবং যাত্রীবাহী ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি আখবাহী ট্রাক্টর-ট্রলিকে পাশ কাটাতে গিয়ে ট্রেলারটি বিপরীত দিক থেকে আসা ভ্যানটিকে ধাক্কা দিয়েছিল।




Comments