সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের উত্তর কোরদোফান রাজ্যের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কোরদোফান রাজ্যের আল-সাফিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর: এএফপি
মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্সের মতে, রবিবার উত্তর কর্দোফানের সোদারি শহরের বাইরে আল-সাফিয়া বাজারে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় বাজারে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটি বলেছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
সোদারি, একটি প্রত্যন্ত শহর যেখানে মরুভূমির বাণিজ্য পথগুলো এসে মিলিত হয়েছে, উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবাইদ থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার (১৩২ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। শহরটি কয়েক মাস ধরে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম করিডরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লড়াইয়ের জেরে কর্দোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলার তীব্রতা বেড়েছে। এই করিডরটি এল-ওবাইদের মাধ্যমে পশ্চিমের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলকে সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী খার্তুম এবং সুদানের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উভয় পক্ষের হামলা—যার অনেকগুলোই প্রত্যন্ত শহর ও গ্রামে—একসঙ্গে কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
গত বুধবার এক হামলায় একটি স্কুলে দুই শিশু নিহত এবং এক ডজন আহত হয়। পৃথক আরেকটি হামলায় দুর্ভিক্ষ ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষণকারী জাতিসংঘ-এর একটি গুদাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত বছর দারফুর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার পর র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) সুদানের কেন্দ্রীয় করিডোর দখলের চেষ্টায় তেল ও সোনাসমৃদ্ধ কর্দোফান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট সৃষ্টি করেছে।
এই সংঘাত কার্যত সুদান-কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে—সেনাবাহিনী কেন্দ্র, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, আর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চল এবং তাদের মিত্রদের সহায়তায় দক্ষিণের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে ড্রোন হামলার জন্য দায়ী পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি।




Comments