ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে আঙ্কারা। সোমবার (৯ মার্চ) পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূপাতিত করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানটেপে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের ভূখণ্ডের ওপর আসা যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ইরান সরকার এই হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়নি।
এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে নিজ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে তুরস্কের আদানায় অবস্থিত ন্যাটোর ঘাঁটির কাছাকাছি মার্কিন কনস্যুলেট থেকে জরুরি প্রয়োজন নেই এমন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এখনই এলাকাটি ত্যাগ করার জন্য জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ন্যাটোর সদস্য দেশ তুরস্কের ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments