চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: ফেসবুক লাইভ করায় ছাত্রীদের ধর্ষণের হুমকি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামে গত শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। হামলার সময় ফেসবুকে লাইভ করায় কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানাজানি হয়।
শনিবার রাত ১২টার দিকে জোবরা গ্রামে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। স্থানীয়রা তাঁদের লাইভ করতে দেখে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল এবং ধর্ষণের হুমকি দেন। হুমকির মুখে ওই শিক্ষার্থীরা ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা বাসার নিচে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেখে ফেসবুকে লাইভ করছিলাম। স্থানীয়রা এটা দেখে দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে এবং ধর্ষণের হুমকি দেয়।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা তাঁদের ভবনের ছবি তুলে রেখেছে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য সাইদ বিন কামাল চৌধুরীকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।”
এদিকে, ‘নারী অঙ্গন’ নামে একটি সংগঠন নারী শিক্ষার্থীদের ওপর মোরাল পুলিশিং, ধর্ষণের হুমকি, সাইবার বুলিং ও প্রশাসনের অবহেলার প্রতিবাদে প্রধান উপদেষ্টা ও দেশবাসীর উদ্দেশে খোলাচিঠি পাঠিয়েছে। বুধবার বিকেলে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ঝুপড়িতে সুমাইয়া শিকদার এ চিঠি পাঠ করেন। চিঠিতে বলা হয়, “প্রশাসনের নারীবিদ্বেষী কার্যক্রম ও অবহেলার কারণে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
নারী অঙ্গন সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, এবং উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।




Comments