অবশেষে কাটল এলপিজি গ্যাসের অচলাবস্থা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ শুরু হয়েছে।
গত বুধবার রাতে দেশজুড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে সিলিন্ডার বিক্রি ও কোম্পানি থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ভোক্তা অধিকারের অভিযান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।
দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য অস্থিরতা কমাতে সরকার বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এলপিজিকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে এর ওপর ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে, আমদানিকারকদের জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলা ও ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির আবেদন নিষ্পত্তি করে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেল সাধারণ মানুষ। সরকার ও বিইআরসি আশা করছে, কর পুনর্বিন্যাস এবং আমদানিতে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত হলে খুব দ্রুতই বাজারে এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments