প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে যা কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে যা কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সম্প্রচারিত ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটি কেবল বাণিজ্যিক সুবিধাই নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত ভিত্তি। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কভার (Reciprocal Tariff) ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে, যা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে উচ্চমূল্যের ও উন্নত মানের পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেবে।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, শুরু করেছি ‘মাইনাস’ থেকে। আজ যাওয়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছি যে, আমরা ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন অর্থনীতির একটি শক্তিশালী বুনিয়াদ গড়ে দিয়ে যেতে পারছি।’
তিনি জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের বিপর্যয় কাটিয়ে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জাপান ও চীনের সঙ্গেও একাধিক কৌশলগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের শিল্পায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
ড. ইউনূস জানান, গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী এবং ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ এবং গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি রক্ষার্থে পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’কে ‘জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও বাক-স্বাধীনতা চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায়। আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আপনাদের সবার।’
ভাষণের শেষে তিনি দেশের ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments