দেশের বাজারে আপাতত জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে অকটেন এবং পেট্রোলের কোনো বাস্তব সংকট নেই। পেট্রোল পুরোটাই দেশে উৎপাদন ও পরিশোধন করা হয় এবং অকটেনেরও সিংহভাগ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে। শুধুমাত্র ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, "কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কেবল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি পাওয়া যাবে না বা দাম বাড়বে—এমন অমূলক আশঙ্কায় মানুষ ভিড় করছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পাম্পেই জ্বালানি সংকট হয়নি।"
জ্বালানি আমদানির হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত রাতে জ্বালানি তেলবাহী একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আজ দুপুর থেকে আরেকটি জাহাজ থেকে তেল খালাস শুরু হবে। আগামী ১২ মার্চ আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। ফলে আসন্ন রমজান ও ঈদে জ্বালানি বা বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই।
ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, "পাইপলাইন দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা, যার বড় অংশই ইতিমধ্যে দেশে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত যাতে সরবরাহ আরও বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।"
অসাধু চক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রয়োজনে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের সুবিধার্থে আজ থেকে প্রতিদিন ৫ লিটার করে তেল সরবরাহের বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় জনমনে বিরাজমান আতঙ্ক দ্রুতই কেটে যাবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments