জলসিঁড়ির আড়ালে ভয়ঙ্কর লুটপাট
সাবেক মেজর জেনারেল সাঈদ মাসুদের হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ
হাতিরঝিল ও জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের আড়ালে ভয়াবহ দুর্নীতি, কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত) মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে বিমানবন্দর থেকে আটকে তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে জলসিঁড়ি প্রকল্পের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে চোখ বেঁধে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘরে’ আটকে রাখা হয়। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং অমানুষিক মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আশিয়ান গ্রুপের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন জলসিঁড়ি প্রকল্পের সাবেক এই চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগীরা এই ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় সাঈদ মাসুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আশিয়ান গ্রুপের মতো স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হিসাব বিভাগের কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও এবি ব্যাংক) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা জোরপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আশিয়ান গ্রুপের কয়েক হাজার কোটি টাকার জমিও জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে দখল করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
সাঈদ মাসুদ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক ছাত্র। তার বাড়ি সৈয়দপুরে এবং পরিবারের সদস্যরা লন্ডনে থাকেন। পেশাগত জীবনে তিনি জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পে কনসালটেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই বিপুল অর্থ তিনি লন্ডনে পাচার করে পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন। এছাড়া, নিয়মবহির্ভূতভাবে বসুন্ধরা গ্রুপকে কয়েক হাজার বিঘা সরকারি জমি দখল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাঈদ মাসুদের বিরুদ্ধে। এর বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। এখনও সেই সরকারি জমি বসুন্ধরা গ্রুপের সীমানার ভেতরে রয়েছে।
রূপগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা আগ্রাসী ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, টাকা না দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কিংবা অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের জমি জলসিঁড়ির নামে লিখিয়ে নেওয়া হতো। কেউ প্রতিবাদ করলে বা নির্দেশ অমান্য করলে তাকে একটি সংস্থার ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হতো।
এদিকে দু্র্নীতির অভিযোগ থাকায় মেজর জেনারেল (অব.) আবু সাঈদ মো. মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, তিনি ২০২০ সালের ২০ জুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থসহ আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।




Comments