Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত কয়েক দিনের উপচেপড়া ভিড় কাটিয়ে এখন স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন চত্বর ও প্ল্যাটফর্মগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে আসে। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, বড় কোনো শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনে এখন আর সেই চিরচেনা গাদাগাদি বা বিশৃঙ্খলা নেই। ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত বসার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে এবং কামরাগুলোতে নেই আগের মতো উপচেপড়া ভিড়। এমনকি ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী উঠতে দেখা যায়নি, যা গত কয়েক দিনে নিয়মিত চিত্র ছিল।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, আজ সারা দিনে মোট ৫৪টি ট্রেন চলাচলের কথা রয়েছে, যার মধ্যে ৪৩টি আন্তঃনগর। সকাল পর্যন্ত ২৫টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই স্টেশন ছেড়ে গেছে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত দুদিন বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হয়েছিল, তবে বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এবং রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক।

নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা সজাগ রয়েছেন। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্টেশন এলাকায় বাড়তি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী সুলতান মাহমুদ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন আগে এলে হয়তো ট্রেনে ওঠাই অসম্ভব হতো। আজ পরিবার নিয়ে খুব সহজেই সিটে বসতে পেরেছি। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারছি, এটাই বড় আনন্দ।”

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বাকি ট্রেনগুলোও সময়মতো ছেড়ে যাবে এবং যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারবেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর