Image description

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী ছাবের আহমদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি দিলে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

রোববার সকাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী ছাবের আহমদের বিজ্ঞাপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তাকে “সুবিধাবাদী” হিসেবে মন্তব্য করেছেন। 

অনেকেই বলছেন, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন বিএনপির ছায়াতলে ঢুকার কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি।

চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন বলেন, '২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার নেতাকর্মীদের চরম দমন পীড়ন করে ছাবের আহমদ। পুলিশ প্রশাসন ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও হামলা করেছিল। নির্বাচনের দিন অবৈধ ব্যালট মেরেছিল বিভিন্ন কেন্দ্রে। একপর্যায়ে বিজিসির হাতে হাতেনাতে শৌচাগার থেকে ব্যালট সহ ধরা পড়ে। কিন্তু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সেদিন আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল। গত এক দশক আমাদের নিপীড়ন করে এখন দলের পদ ছেড়েছে বিএনপির নেতাদের সমর্থন নিয়ে আবারও নির্বাচনে আসার জন্য। এসব সুবিধাবাদীদের দল প্রতিহত করবে।'

গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। নোটারী পাবলিকটি স্থানীয় একটি পত্রিকায় রোববার প্রকাশিত হলে তাকে নিয়ে উঠে আলোচনা সমলোচনার ঝড়। এরআগে ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার জুলধা এলাকার তেল শুক্কুর (আবদুল শুক্কুর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত হাজী ছাবের আহমদ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালিন চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত করতেন না পরিষদ। স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসাই প্রধান। এছাড়া তার একাধিক মাছ শিকারের জাহাজ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দেওয়া ও নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসার সুযোগ কম পেতেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিজ বাড়ি চরপাথরঘাটা গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকা খুলশীর নিজস্ব ফ্ল্যাটে।

২০১৬ সালে পশ্চিম চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাবের আহমদ চরপাথরঘাটার ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে আটকও হয়েছিলেন। এসময় শৌচাগার থেকে ৪০০ ব্যালট পেপার এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আরও ২০০ ব্যালট পেপার জব্দ করে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম।

হলফনামায় হাজী ছাবের আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। তবে এই পদটি তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিও করেননি বলেও দাবী করেন হলফনামায়।

অভিযোগের বিষয়ে হাজী ছাবের আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তির কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদত্যাগ করেছি। এখন এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সময় দিব। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না বলেও জানান তিনি।