Image description

রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে বর্তমান সরকার। এখন পর্যন্ত এ ধরনের মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাংসদ মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইনমন্ত্রী জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। 

তিনি বলেন, যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গত ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন, এজাহার ও চার্জশিট পর্যালোচনা করে যদি দেখে যে—মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং এটি চললে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে, তবেই তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।

জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য গত ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমেই এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক যেসব মামলা এখনো প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।