Image description

দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয় ও গঠনতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ফেসবুকে ভিপি মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভিপিই নন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. রায়হান খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. সামিউল হাসান এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরেরও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ‘কোনো নির্বাচিত সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনে যোগ দেন অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হন, তাহলে তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।’ গঠনতন্ত্রে এমন কঠোর বিধান থাকা সত্ত্বেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনেকে একে ‘ভোটারদের ম্যান্ডেটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এ বিষয়ে ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হয়ে আমি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছি। তবে গকসুর গঠনতন্ত্র রক্ষায় আমি কোনো দলীয় পদ নিইনি। ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো দলীয় রাজনীতি করব না এবং কাউকে করতেও দেব না।”

অন্যদিকে, এজিএস মো. সামিউল হাসানের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা একজন নাগরিকের অধিকার। আমি শিবিরের আদর্শিক দর্শন পছন্দ করি, তবে সরাসরি কোনো দলীয় পদে নেই।” 

জিএস মো. রায়হান খানও ছাত্রশিবিরের একটি অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতিকে ‘সাধারণ অংশগ্রহণ’ বলে দাবি করেছেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর সরাসরি ছাত্রদলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে গকসুর কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই প্রতিনিধিরা বিজয়ী হয়েছিলেন। অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের এই রাজনৈতিক মেরুকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর