রুয়েটে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আজীবন বহিষ্কার এক ও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি আট
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং আরও আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, প্রধান অভিযুক্ত কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন মজুমদারকে (আইডি: ২৪০৩১২৯) আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নিপীড়নে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শাস্তিপাপ্ত এই ৮ জন শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য হল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করবে না।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি ধারণ করত। এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার বিচার দাবিতে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে।
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুয়েট ক্যাম্পাসে এ ধরনের অনাচারের কোনো স্থান নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments