জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস) কার্যালয়ে নৃশংস হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে এই হামলায় জবিসাস-এ কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ১০ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্বাচন বানচাল করতে গত কয়েকদিন ধরেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। আজ দুপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সমিতি কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তদন্তে জানা গেছে, হামলা শুরুর ঠিক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি ক্যামেরা বাদে পুরো ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শাখা ছাত্রদলের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, হামলা শুরুর আগে ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার আইটি দপ্তরে গিয়ে পরিচালকের সহায়তায় সিসিটিভি বন্ধ করে দেন। এরপরই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে আইটি টেকনিশিয়ান শামিম জানান, দুপুর একটার কিছুক্ষণ পরে আন্ডারগ্রাউন্ডের মূল ফাইবার ক্যাবল কেটে দেওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে আইটি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন অভিযোগ করে বলেন, "হামলার পর আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তার মনিটরেও সব ক্যামেরা বন্ধ দেখতে পাই। উপাচার্য এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সিসিটিভি বন্ধ করে এভাবে হামলা চালানো থেকে কি আমরা ধরে নিতে পারি যে প্রশাসনের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত?"
সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, "বিষয়টি নজরে আসার পর আমি আইটি পরিচালককে বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এটি টেকনিক্যাল সমস্যা।"
উল্লেখ্য, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিশন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments