Image description

রাজধানীর খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলি (১৭) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাব। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া ও প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিলিকে গলা কেটে হত্যা করেন তার বাবার হোটেলের কর্মচারী মিলন মল্লিক (২৮)।

সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোববার সকালে বাগেরহাটের মান্ডা বাঁশখালী এলাকা থেকে র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মিলন নিহত নিলির বাবা মো. সজীবের মালিকানাধীন হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও একই প্রস্তাবে নিলি তাকে বকাঝকা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে র‍্যাব জানায়, গত শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন বনশ্রীর এল-ব্লকের ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তখন বাসায় ছিলেন নিলি ও তার বড় বোন শোভা আক্তার। কিছুক্ষণ পর শোভা বাসা থেকে বের হয়ে জিমে যান। এরপর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় ঢুকে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যেই নিলিকে হত্যা করা হয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি সঙ্গে নিয়ে বাসায় যান মিলন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি প্রথমে দড়ি দিয়ে নিলির গলা চেপে ধরেন। নিলি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসা থেকে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিলির বড় বোন শোভা জিম থেকে ফিরে ডাইনিং রুমের বেসিনের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় নিলির মরদেহ দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. সজীব অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ঘটনার দিন পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও নাইলনের দড়িও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই