Image description

রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়া আক্তার (২৭) নামে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মোট তিনজন।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, রিয়া আক্তার ৩২ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় আইসিইউতে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিকেলের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শতভাগ দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার (২৫) এবং ৪৫ শতাংশ দগ্ধ দুবাই প্রবাসী এনায়েত আলী (৩২)। বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ আরও ৭ জন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যমে-মানুষে লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে ৩ বছরের শিশু রোজা এবং ১০ বছরের জুনায়েদসহ অন্যদের শরীরের ৭ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে।

গত শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে উত্তরার কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে আবুল কালামের ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাইড শেয়ারিং চালক রুবেলের বাসায় তার চাচাতো ভাই দুবাই প্রবাসী এনায়েত আলী সপরিবারে মাদারীপুরের শিবচর থেকে বেড়াতে এসেছিলেন। শুক্রবার ভোরে জমানো গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ভবনের দেয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং বাসার ভেতরে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন।

স্বজনরা জানান, এনায়েত আলী দীর্ঘদিন পর দুবাই থেকে দেশে ফিরে স্বজনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিলেন। কিন্তু একটি গ্যাস লিকেজ সেই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন বাকি ৭ জনের অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত নয়। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই