Image description

রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোতে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে অন্তত দুই শতাধিক নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

হামের এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে এখানে তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৮৫ জন শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৬৮ জন। এদের মধ্যে ৪০ জন শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানান, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী আসছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্তদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষায়িত আইসিইউর সীমাবদ্ধতাও চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপতালে। সেখানেও গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক বলেন, "প্রথমে আমরা ১০টি শয্যা দিয়ে শুরু করলেও এখন রোগীর চাপে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হচ্ছে। পাশাপাশি অক্সিজেন ও জনবল নিশ্চিত করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।"

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার মুগদা, সোহরাওয়ার্দী, ডিএনসিসি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। যদিও সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭৮ বলা হচ্ছে, তবে হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্র বলছে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

মানবকণ্ঠ/আরআই