Image description

ছুটির দিন শুক্রবারে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য গত কয়েক দিনের সেই চিরচেনা দীর্ঘ লাইন অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন মাত্র কয়েক মিনিটেই তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা। তবে এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে গ্রাহকদের মধ্যে যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি তেলের দাম বাড়ানোর ‘কৌশল’ নিয়ে ক্ষোভও লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও পরীবাগ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় রাইড শেয়ারিং চালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তেল নেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘গত শনিবার ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম। অথচ আজ মাত্র ১৫ মিনিটে ১ হাজার টাকার তেল পেলাম। বিষয়টির দ্রুত সমাধান ভালো, তবে দাম বাড়ানোর পর কেন লাইন কমে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সরকার চাইলে তো আগেই ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে পারত।’

একই স্টেশনে প্রাইভেটকার চালক ওমায়ের রহমান জানান, ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি তেল পেয়েছেন। তার মতে, দাম বাড়ার কারণে লাইনের চাপ অনেকটা কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত শুক্রবার এই স্টেশনে একই সময়ে প্রায় ৮০০টি যানবাহন অপেক্ষায় থাকলেও আজ সেখানে ১০০টিরও কম যানবাহন দেখা গেছে।

পরীবগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনেও ভিড় ছিল নগণ্য। সেখানে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালক সাব্বির মিলন বলেন, ‘ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা এবং তেলের দাম বাড়ার কারণে আগের মতো মানুষ আর অযথা ভিড় করছে না। গত শুক্রবার এখানে ৫০০-র বেশি মোটরসাইকেল ছিল, আজ তা ১০০-র কাছাকাছি।’

তবে দ্রুত তেল পেলেও চালকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে। প্রাইভেটকার চালক মানিক মিয়া বলেন, ‘আগে তেলের জন্য হাহাকার ছিল, এখন তেল আছে কিন্তু দাম আকাশচুম্বী। আগে দেড় হাজার টাকার বেশি তেল দিত না, এখন দুই হাজার টাকারও বেশি দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার আগে কেন উদ্যোগ নেয়নি, সেটাই বড় প্রশ্ন।’

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত রোববার থেকেই পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর