Image description

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সদিচ্ছা প্রকাশ করলেও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কিন্তু বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করলে তা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী সুসম্পর্ক গড়তে হলে দিল্লিকে সহিংসতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

রোববার (১০ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতে নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “গতকালও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ ভারতের সাধারণ মানুষও চায় না। সীমান্তে আর কত রক্তপাত হবে? এই রক্তপাত বন্ধ না হলে বন্ধুত্বের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জাতির কাঠামো নির্মাণের কারিগর হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “আপনাদের পেশাকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। আপনাদের পরিশ্রমের মূল্যায়ন জনগণ করবে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন ও উৎপাদনে ভূমিকা রাখা প্রতিটি পেশাজীবীকে যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি শুধু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পরিশ্রম করেন। তিনি অতীতের মতো ‘১০ টাকা কেজি চাল’ বা ‘ঘরে ঘরে চাকরি’র মতো কোনো ফাঁপা বা প্রতারণামূলক অঙ্গীকার করেননি। নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”

বর্তমান সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সংসদ চালু হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ সংসদ সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার আছে এবং সরকার তার জবাব দিচ্ছে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, “বিশেষজ্ঞরা আজও বলেন, জিয়াউর রহমান যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাতেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি। সিঙ্গাপুরের মতো ধূসর মরুভূমি যদি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে, তবে নদী-নালার এই বাংলাদেশকে আমরা সংস্কারের মাধ্যমে অবশ্যই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করব।”

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের পেশাগত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরেন।