Image description

পকেটে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, আর চোখে ছিল রুপালি পর্দার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ঘর ছেড়েছিলেন এক কিশোর। টিকে থাকার লড়াইয়ে থিয়েটারের মঞ্চে চা পরিবেশন করেছেন, করেছেন পর্দার পেছনের নানা ছোটখাটো কাজ। আজ তিনিই কন্নড় সিনেমার সেই কিংবদন্তি, যার সিনেমা বিশ্বজুড়ে ১২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। তিনি আর কেউ নন, সবার প্রিয় ‘রকি ভাই’ খ্যাত তারকা ইয়াশ।

আজকের সুপারস্টার ইয়াশের আসল নাম নবীন কুমার। বাবা অরুণ কুমার ছিলেন একজন সাধারণ বাসচালক এবং মা পুষ্পা একজন গৃহিণী। শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রচণ্ড টান থাকলেও পরিবার চেয়েছিল ছেলে সরকারি চাকরি করুক। কিন্তু ইয়াশ ছিলেন নিজের লক্ষ্যে অটল। পরিবারের অমতেই মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বেঙ্গালুরুতে পা রাখেন তিনি।

বেঙ্গালুরু এসে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন ইয়াশ। থিয়েটারে কাজ শুরু করলেও শুরুতে বড় কোনো সুযোগ মেলেনি। ব্যাকস্টেজে চা পরিবেশন থেকে শুরু করে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তবে এই প্রতিটি ধাপ তাকে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখতে সাহায্য করেছে। ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার পেশাদার যাত্রা শুরু হয় এবং ২০০৭ সালে ‘জাম্বাদা হুদুগি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে।

পরিচালক প্রশান্ত নীলের ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১’ (২০১৮) ইয়াশের জীবন বদলে দেয়। কন্নড় সিনেমার ইতিহাসে প্রথম ছবি হিসেবে এটি ১০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে। তবে এর সিক্যুয়েল ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটির বেশি আয় করে ইতিহাস গড়ে। ইয়াশ হয়ে ওঠেন প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই তারকার জন্মদিনে ভক্তদের জন্য এসেছে বিশেষ উপহার। গীতু মোহানদাস পরিচালিত তার আসন্ন ছবি ‘টক্সিক’-এর টিজার প্রকাশিত হয়েছে। এতে ‘রায়া’ চরিত্রে ইয়াশের দাপুটে অবতার ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ৪০০০ কোটি রুপি বাজেটের মেগা প্রজেক্ট ‘রামায়ণ’-এ রাবণ চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সহ-প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করছেন।

একজন বাসচালকের ছেলের এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ মানুষও সীমানা ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। ইয়াশের এই জীবনযুদ্ধ আজ কোটি তরুণের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।

মানবকণ্ঠ/আরআই