নতুন সিনেমা ‘দো দিওয়ানে শেহের মে’ সিনেমা প্রসঙ্গে মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর। আড্ডায় উঠে আসে তার শারীরিক পরিবর্তন, সহ-অভিনেতার সঙ্গে রসায়ন, ব্যক্তিগত অনিরাপত্তা, সৌন্দর্য নিয়ে সংগ্রাম এবং বিয়ে নিয়ে চিন্তাভাবনা।
‘দো দিওয়ানে শেহের মে’ সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ‘অনিরাপত্তা’ ও ‘আত্মবিশ্বাস’। বাস্তবজীবনেও এর মুখোমুখি হয়েছেন ম্রুণাল ঠাকুর। অভিনেত্রী বলেন, ‘ছাত্রজীবনে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও ক্লাসে হাত তুলতে পারতাম না। আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল।
তিনি বলেন, আবার ইংরেজিতে মারাঠি টান থাকায় অস্বস্তি লাগত। উচ্চারণ নিয়ে মশকরা হতো। এমনকি আমার নাম নিয়েও অনেকে মজা করত।’
ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পরও এসব নিয়ে সচেতন ছিলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘মনে হতো ইংরেজির অভিজাত উচ্চারণ দরকার। কিন্তু পরে বুঝেছি, যতক্ষণ এসবকে গুরুত্ব দেবেন, ততক্ষণই তা আপনাকে দুর্বল করবে। এখন আমি নিজের মতো থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’ সিনেমার রোশনি চরিত্রের সঙ্গে তার মিলও কম নয়। ৬০ শতাংশ রোশনি, ৪০ শতাংশ আমি বলে জানান ম্রুণাল ঠাকুর।
ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ম্রুণালের তেমন সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম সিনেমা লাভ সোনিয়ার অডিশনের সময় ফোল্ডারে লেখা ছিল- ‘ডু নট ওপেন’। ম্রুণাল বলেন, তবে পরিচালক সেটি খুলেছিলেন বলেই সুযোগটা পাই। সোনিয়া ছিল গ্রামের মেয়ে।
প্রযোজকদের বোঝাতে হয়েছিল- মেকআপে সব ঠিক করা যাবে। তখনই বুঝেছি, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে কিছু হয় না। সবার জীবনেই সংগ্রাম আছে। আবার কিছু আক্ষেপও আছে। কখনো মনে হয়, যদি সাধারণ মেয়ে হতাম! পরিবারের সঙ্গে বাইরে ডিনারে যেতে পারতাম। এমনও হয়েছে, কাছের মানুষের শেষকৃত্যেও যেতে পারিনি।
সিনেমাটির প্রযোজক খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। তার প্রশংসা এখনো ম্রুণালের মনে গেঁথে আছে। ‘সীতা রাম দেখার পর তিনি বলেছিলেন- অনেক দিন পর এমন একজন মারাঠি মেয়ে এসেছে, যে কোনো শোরগোল না করে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করছে। অভিনেত্রী বলেন, বিশ্বাস করুন- এটি আমার কাছে অনেক বড় প্রশংসা।
কেমন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান? উত্তরে লাজুক হেসে ম্রুণাল বলেন, যার নেতৃত্বগুণ আছে। যে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এগোয়। আমার কাজকে সম্মান করবে। আমার খামতিগুলো মেনে নেবে। আর যার সঙ্গে থাকলে মানসিক শান্তি পাব-এমন ছেলেকেই চাই।




Comments