বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি এবার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। পারিবারিক ঐতিহ্য আর সহকর্মী শিল্পীদের জোরালো অনুরোধেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমকে মুক্তি জানান, তার এই সাহসের নেপথ্যে রয়েছে মা প্রখ্যাত অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, “মা সবসময় চাইতেন আমি যেন শিল্পীদের অধিকার আর কল্যাণে সরাসরি কাজ করি। তার সেই লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আমি এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
শিল্পী সমিতির গত মেয়াদে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে মুক্তির। সেই সময় তিনি ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে সম্মুখভাগে থেকে কাজ করেছেন। এই সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাই তাকে বড় পদের লড়াইয়ে নামার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষের পথে। নিয়ম অনুযায়ী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুর দিকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। মুক্তির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্যানেল গঠনের তোড়জোড়ও পর্দার আড়ালে চলছে বলে চলচ্চিত্র পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে। পারিবারিক পরিচিতি এবং সাধারণ শিল্পীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তিনি এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ দিয়ে বড় পর্দায় ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী ‘চাঁদের আলো’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’ ও ‘জগৎ সংসার’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এবার রুপালি পর্দার সেই নায়িকা ভোটের মাঠে সাধারণ শিল্পীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments