সিরাজগঞ্জে মৌসুমি আখে বাম্পার ফলন, নতুন গুড়ে সরগরম হাট-বাজার
সিরাজগঞ্জে চলতি মৌসুমে আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরোদমে আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তাজা গুড় উঠতে শুরু করেছে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। দাম ভালো থাকায় খুশি কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষ হওয়া জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি, বোন ও চুষে খাওয়ার আখ। কয়েক মাস আগে তিন চোখের ডাঁটা (ডাং) রোপণ করা হয়। বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে এ আবাদ বেশি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মোতা (রেটুন) পদ্ধতিতে আখ চাষ করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, একবার আখ চাষ করলে ৪-৫ বছর পর্যন্ত মোতা থেকেই পুনরায় আখ গজায়। এতে খরচ কম হয় এবং লাভ বেশি পাওয়া যায়। চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আখের আবাদ বেশি হয়েছে।
শীত মৌসুমে আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরির ধুম পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় ৮০ থেকে ১০০ টাকায় এবং খাঁটি গুড় কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও ভেজাল গুড় তৈরির অভিযোগও উঠেছে।
অনেক কৃষক ক্ষেত ধরে প্রতিবিঘা আখ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই এ চাষ বাড়ছে। শহর-বন্দর ও সড়কপথে যানবাহনে করে আখ বিক্রি হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনে ভাঙানো আখের রসের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। প্রতি গ্লাস আখের রস বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
কাজীপুর উপজেলার চর গিরিশ গ্রামের কৃষক রহমান (৭০) ও আব্দুর রহিম (৭১) জানান, তারা সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি শুরু হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় তারা লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। গত বছরের তুলনায় এবার লাভ বেশি হবে বলেও আশা করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “এবার আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা সন্তুষ্ট।”




Comments