Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ বাজারে বসবাসরত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী, স্থানীয়দের কাছে ‘মুক্তা’ নামে পরিচিত, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু কে বা কারা তাকে এই অবস্থায় ফেলেছে সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তা রসুল্লাবাদ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। দিন-রাত নির্বিচারে বাজারে অবস্থান করতেন তিনি। চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে প্রায়ই দেখা যেত। অসহায় ও মানসিকভাবে অক্ষম হওয়ায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারতেন না।

এ অবস্থায় তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। তবে ভুক্তভোগী নিজেও ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে অক্ষম, যা বিষয়টিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ ঘটনা স্থানীয় সমাজব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষ করে মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতার বিস্তারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। 

তারা বলছেন, “যেখানে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারীও নিরাপদ নয়, সেখানে সমাজের নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর—তা সহজেই অনুমেয়।”
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে আমরা পাগল-প্রতিবন্ধীদের দেখে ভয় পেতাম, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই সমাজের নির্যাতনের শিকার। এটি আমাদের জন্য লজ্জার।”

সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বাজার ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজকে অনিরাপদ করে তোলে। যেমন একজন মাদকাসক্ত চালকের হাতে যাত্রীদের জীবন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি মাদকাসক্তদের বিচরণে সমাজের দুর্বল মানুষরাও হয়ে পড়ে চরমভাবে অসুরক্ষিত!!??

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান জানান, মানসিক প্রতিবন্ধী নারী ও নবজাতকের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।