Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় পৌঁছেছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ। দীর্ঘ এক সপ্তাহব্যাপী এই যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিতে মিত্র দেশগুলো একযোগে এই অবস্থানে সমবেত হয়েছে।

এই মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সামরিক হস্তক্ষেপ এবং একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দ করাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহড়া শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রক্ষার লক্ষ্যেই এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এই মহড়ায় ব্রিকস জোটের অন্যান্য সদস্য দেশ যেমন—ব্রাজিল, ভারত বা সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নিচ্ছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নৌ মহড়াটি এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার যে দাবি উঠেছে, তা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে। এর মধ্যে উত্তর আটলান্টিকে একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পণ্য পরিবহন করছিল।

তেল বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাশিয়া ও তার সহযোগী দেশগুলো বেশ বিপাকে পড়েছে। মস্কো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ নৌ মহড়ার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রনীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সামরিক জোটবদ্ধতা ওয়াশিংটনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।