স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যে কোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তেল শিল্পের নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ‘সহজ’ অথবা ‘কঠিন’—যেকোনো পথ বেছে নিতে প্রস্তুত।
বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার খরচ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি গ্রিনল্যান্ডের জন্য অর্থের কথা বলছি না। তারা পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় কিছু করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা যদি এটি না করি, তবে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই না।”
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমি একটি চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সহজভাবে সমাধান করতে চাই। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে আমরা কঠিন পথ বেছে নেব।”
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম চালানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন একে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যখন আপনি কোনো কিছুর মালিক হবেন, তখনই আপনি তা পূর্ণ শক্তিতে রক্ষা করবেন। ইজারা নেওয়া কোনো জায়গাকে মালিকানার মতো করে রক্ষা করা যায় না। মালিকানা থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এর আগে গত বছরের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্চ মাসে বলেছিলেন, “ওয়াশিংটন আশা করে গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা লাভ করবে এবং এরপর শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেবে। সেক্ষেত্রে সামরিক বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।”
তবে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে রয়টার্সকে জানানো হয়েছে, “গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর ব্যবহার সবসময়ই প্রেসিডেন্টের হাতে একটি বিকল্প হিসেবে থাকছে। এছাড়া পরদিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে তার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছেন।”
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে ন্যাটো জোটের বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান ডেনমার্ক ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: তাস নিউজ মানবকণ্ঠ/বিএস




Comments