Image description

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরান এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।”

বিক্ষোভের ব্যাপকতা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হচ্ছে জনগণ এমন সব শহর দখল করে নিচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ সম্ভব বলে ভাবেনি।” বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া এবং দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইরানি শাসকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনোভাবেই যেন গুলি চালানো না হয়। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
 
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এই বিষয়ে জড়িত হব। যেখানে আঘাত করলে তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগবে (পেইন পয়েন্ট), সেখানেই আমরা আঘাত করব।” 

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে মার্কিন স্থলবাহিনী বা ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনোভাবেই পিছু হটবে না। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। চলমান এই গণবিক্ষোভকে বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাজানো ‘চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা এখন মারমুখী অবস্থানে রয়েছেন। মিছিলে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প এই বিক্ষোভকে 'অবিশ্বাস্য এবং আশ্চর্যজনক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত বছরও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, “তোমরা (ইরান সরকার) গুলি না চালালেই ভালো করবে, কারণ তোমরা শুরু করলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।” 

গত সপ্তাহেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে।