ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলন দমাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি ক্রমে রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরানের একটি হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’ জানিয়েছে, কেবল তেহরানের ছয়টি হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জনের মরদেহ এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের ওই চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত তার দেখা ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং তাদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শুক্রবার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালগুলো থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের এই বিশাল সংখ্যার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
বিক্ষোভের সংবাদ ও ভিডিও প্রচার রোধ করতে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরের প্রকৃত চিত্র পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে গরমিল
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের সাথে চিকিৎসকের দাবিকৃত সংখ্যার কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ইরানি মানবাধিকার ‘সংগঠন এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি কেবল শনাক্ত হওয়া লাশের ওপর ভিত্তি করে নিহতের সংখ্যা ৬৩ বলে উল্লেখ করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি
বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে শুরু হলেও এখন বিক্ষোভকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের স্লোগান দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন সহিংস রূপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্যও ভাঙচুর করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।




Comments