পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান এলাকায় শান্তি কমিটির এক সদস্যের বাসভবনে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। শুক্রবার রাতে কুরাইশি মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
ডেরা ইসমাইল খানের জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) সাজ্জাদ আহমেদ সাহেবজাদা জানান, শান্তি কমিটির প্রধান নূর আলম মেহসুদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন এই বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, অতিথিরা যখন ঢোলের তালে নাচছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের ছাদ ধসে পড়ে, যা উদ্ধারকাজে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
ডিপিও সাজ্জাদ আহমেদ সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, “এটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল।" ঘটনার পরপরই জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে”।
খাইবার পাখতুনখোয়া রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়েজি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫টি মরদেহ এবং ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে ৭টি অ্যাম্বুলেন্স, একটি ফায়ার ভেহিকল এবং একটি ডিজাস্টার ভেহিকল অংশ নেয়।
নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘেরাও করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহিদুল্লাহ মেহসুদ (ওরফে জিগরি মেহসুদ) রয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রদেশের আইজিপি-র কাছে প্রতিবেদন তলব করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাদেশিক সরকার নিহতের পরিবারের শোকের সমব্যথী। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে”।
অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় শান্তি কমিটির চার সদস্য নিহত হয়েছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একই জেলায় শান্তি কমিটির কার্যালয়ে হামলায় সাতজন নিহত হন।
তথ্যসূত্র: ডন




Comments