ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদেশগুলোর নেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে যেকোনো সময় এমনকি আজ রোববার থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিবর্তে সীমিত কিন্তু কৌশলগত হামলার মাধ্যমে ইরানে গণবিক্ষোভ উসকে দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করছে। এক সাবেক শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বেশি—দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সক্ষমতা ধ্বংস করা।
সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক অবকাঠামো। একই সঙ্গে ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্র্যাটেজি’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশলও বিবেচনায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে শেষ পর্যন্ত রেজিম চেঞ্জ ঘটতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ধরনের হামলার পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌবহর ইতিমধ্যে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে যুদ্ধ এড়াতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। তুরস্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন বৈঠকের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিক্রিয়া হবে নজিরবিহীন এবং যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে আর সীমিত বা আগাম সতর্কতামূলক জবাবের নীতি অনুসরণ করা হবে না।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে যেমন সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলছে, তেমনি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনার দরজাও খোলা রাখার বার্তা দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ড্রপ সাইট নিউজ




Comments