Image description

ব্যাপক হট্টগোলের জেরে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা অধিবেশনে বক্তব্য দিতে পারলেন না দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হট্টগোলের কারণে সভা মুলতবি হয়ে গেছে। বাতিল করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকালে লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপন প্রস্তাবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মোদির। কিন্তু সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় সংসদের নিম্নকক্ষে। কখনও চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কখনও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা, কখনও গান্ধী পরিবারকে অপমান প্রসঙ্গে বিরোধীপক্ষ বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিকবার সভা মুলতবি করতে হয়। 

বিকাল পাঁচটার পর ফের অভিবেশন শুরু হলে বিরোধী সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সভা সম্পূর্ণ মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

সকালে প্রশ্নোত্তরপর্ব থেকেই লোকসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভ চলে। স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছিলেন, সভার সদস্যদের প্রশ্ন করতে দেওয়া উচিত এবং সকলের নিয়ম মেনে গোটা প্রক্রিয়াকে সম্মান করা উচিত। 

কিন্তু তারপরও বিক্ষোভ থামেনি। তাই বেলা ১২টা পর্যন্ত সভা মুলতবি করা হয়েছিল। ফের সভার কাজকর্ম শুরু হলে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হাতে প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস সংসদ সদস্যরা। 

২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের প্রসঙ্গ ওঠে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতার প্রশ্নও ওঠে সংসদে। এ পর্যায়ে আবারও সভা মুলতবি করা হয় দুপুর ২টা পর্যন্ত।

পরবর্তী ধাপে লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তেলুগু দেশম পার্টির সংসদ সদস্য কৃষ্ণপ্রসাদ টেনেটি। তিনি বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবেকে ভাষণের অনুমতি দেন। নিশিকান্ত গান্ধী পরিবারকে অপমান করেন বলে অভিযোগ। একাধিক বইয়ের নাম করে করে তিনি বলতে থাকেন, কোন বইতে গান্ধী পরিবারের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে কী তথ্য রয়েছে। এতে লোকসভায় হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

টেনেটি জানান, এই ধরনের মন্তব্যে তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। স্পিকার সভায় এই ধরনের মন্তব্য নিষিদ্ধ করেছেন। বিরোধী সাংসদেরা নিশিকান্তের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন এবং সভার কাজ বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

এই সময়েই শোনা যাচ্ছিল, বিকাল পাঁচটার পর সভা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে পারেন। বিরোধীরাও তৈরি ছিলেন। লোকসভার কার্যক্রম ফের শুরু হলে পরিচালনার দায়িত্ব পান মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রাই। তিনি প্রথমে পিপি চৌধুরীকে কথা বলার অনুমতি দেন। কিন্তু বিরোধীরা হট্টগোল শুরু করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুধবারের মতো সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

বিরোধীরা এতে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়ে গেছেন।”