Image description

তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র মাঝেই গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিশু ও একজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উত্তর গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাবু লক্ষ্য করে হামলায় ৪ জন এবং আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাবু শিবিরে বিমান হামলায় আরও ২ জন প্রাণ হারান। 

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের প্রথম সারির উদ্ধারকর্মী হুসাইন হাসান হুসাইন আল-সুমাইরিও রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত চার মাস ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৮০৩ জনে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বর্তমানে গণহত্যার মামলা চলছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ৬৬টি বক্সে ভরে 'মানবদেহের দেহাংশ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ' রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে। এগুলো পরীক্ষার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মধ্যে সমন্বয়হীনতার অজুহাতে বুধবারের মেডিকেল ইভাকুয়েশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ১৮ হাজারেরও বেশি রোগী জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজা ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে সাঈদ নায়েল আল-শেখ (২৪) নামে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন। এই অভিযানে আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর