চরম উত্তেজনার মাঝেই ওমানের রাজধানী মাসকাটে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আজ শুক্রবার বৈঠক বসছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। অবশ্য বৈঠকের আগেই ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএস ভার্চুয়াল দূতাবাস।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের এমন একটি প্রস্থান পরিকল্পনা রাখতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকবেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ।
এদিকে নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়ক বন্ধ, গণপরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং ইন্টারনেট সংযোগে প্রতিবন্ধকতা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সরকার মোবাইল, ল্যান্ডলাইন এবং জাতীয় ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করে রেখেছে। এছাড়া ইরানে আসা-যাওয়ার ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস।
ইউএস ভার্চুয়াল দূতাবাস আরও জানায়, মার্কিন নাগরিকদের ধারাবাহিক ইন্টারনেট বিভ্রাটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে স্থলপথে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বার্তায়।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, ইরানে মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ কারণে তাদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং ‘লো প্রোফাইল’ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
যদি কোনো কারণে দেশ ত্যাগ করা সম্ভব না হয়, তবে নাগরিকদের নিজ বাসভবনের ভেতরে বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে একটি “নিরাপদ অবস্থান” খুঁজে নিতেও সতর্কবার্তায়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার, পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী মজুত রাখারও পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঝে সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সামরিক অভিযানের পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনার পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
ওমানে যাওয়ার আগে আব্বাস আরাগচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, গত বছরের অম্ল-মধুর স্মৃতি ও উদার মন নিয়ে তাঁর দেশ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। তেহরান নিজেদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে অবিচল আছে।
অপরদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধি দল ইরানের জন্য ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কূটনীতি ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও অনেক বিকল্প আছে।
এখন দেখার বিষয় বৈঠকের ফলাফল কি হয়।




Comments